মুভি ডিরেক্টর, জেমস ক্যামেরনের অবতার ২ ফাইনালি ধীরে ধীরে আমাদের সামনে আসতে শুরু করছে, কিছুদিন আগে আমরা এর একটা টিজার ইউটিউবে দেখেছি , আর টিজার দেখে অনেক বিশেষজ্ঞরা এটা বলছে যে এই মুভিতে যে টেকনোলজি কে ব্যবহার করা হয়েছে সেটা হয়তোবা সিনেমা তৈরি করাতে যে টেকনোলজিক ব্যবহার করা হয় সেটার মধ্যে অনেক কিছু চেঞ্জ এনে দিতে পারে।
অবতারের প্রথম part টি যে অ্যাডভান্স টেকনোলজি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল সেটা দেখার পর আমরা খুব আগ্রহের সাথে অবোতোর টুয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
কিন্তু এই মুভিটা আমাদের সামনে আসতে অনেক অনেক সময় লাগিয়ে দিয়েছে , অবতারের টু সম্পর্কে ইন্টারনেটে অনেকদিন থেকে অনেক গসিপ চলছিল। তার সাথে অনেকেই এটাও ভেবেছিল যে হয়তো অবতার টু কোনদিন রিলিজিই হবে না।
কিন্তু যেদিন থেকে অফিশিয়ালি এই মুভির অফিসিয়ালি কিছু স্ক্রিনশট এবং কিছু লিকস মানুষের সামনে আসতে শুরু করে, তখন সবাই সত্যিই খুব এক্সাইটেড হয়ে যায় , যে নেক্সট অবতর কি আনতে চলেছে আমাদের সামনে।
একদিকে রামায়ণের নামে আদিপুরুষ বানাতে গিয়ে যেমন বলিউড হেগে ফেলছে ,অন্যদিকে জেমস ক্যামেরুন, নতুন নতুন টেকনোলজি মুভির মধ্যে এনে পুর ইন্ডাস্ট্রিসর টেকনোলজি কেই পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে আপনাদের মধ্যে আদি পুরুষের টিজার কে কে দেখেছেন? নিচে অবশ্যই জানাবেন আমার পার্সোনালি যে যে ক্যারেক্টার ওখানে দেখানো হয়েছে ,সেগুলোর সেগুলোর সাথে রামায়ণের কোন মিল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রাভাস কে দেখতে শ্রীরামের থেকে পানওয়ালা বেশি মনে হচ্ছে ,আর বাজরংবালি হনুমানের মুখে কোন এক্সপ্রেশন ই নেই, যেন মনে হচ্ছে একটা কৃতদাস।
আর সিজিআই ওফ সিজি আই সম্পর্কে কি বলবো ইন্টারনেটে প্রচুর লোক এটাও বলছে। যে একে থিয়েটারে রিলিজ না করে পোকো চ্যানেলে রিলিজ করা ভালো ছিল।
তবে যাই হোক আদি পুরুষের কথা বাদ দেয়া যাক আমরা এখানে ,অবতর টু এর টেকনোলজি সম্পর্কে আলোচনা করবো একটা ছোট্ট রিক্যাপ জন্য বলি, যে জেমস ক্যামেরনের অবতোর ছিল মানে প্রথম পাট যেটা ২০০১ সালে এসছিল ওটা একটা সাইন ফিকশন মুভি ছিল।
যেখানে দেখানো হয়েছিল মানুষ একটা, অন্য গ্রহ তে গিয়ে কিভাবে একটা উপনিবেশ স্থাপন করে ছিল, এবং ওই গ্রহের উপরে অধিপথ পাওয়ার জন্য ওখানকার যে লোকাল বাসিন্দা ছিল আদি বলা হয়েছিল তাদের সাথে কিভাবে যুদ্ধ করতে হয়েছিল।
মানুষ যে অন্য কোন গ্রহে থেকে এরকমভাবে উপনিবেশ স্থাপন করা জন্য ওখানকার লোকাল লোকেদের মারতে পারে সেটা নতুন কিছু না। এটা আমরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য উপনিবেশ থেকেই বুঝতে পারি কিভাবে তারা ভারতে, এবং অন্যান্য দেশে গিয়ে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। এবং ওই দেশের উপরে অধিপত্য পাওয়ার জন্য কিভাবে ওখানকার লোকাল মানুষদের উপরে অত্যাচার করেছিল সেই ইতিহাস আমরা সবাই জানি।
তো সেরকম ধরনেরই একটা ঘটনা অন্য কোন গ্রহে থেকে হয়েছিল আর কি। ওই মুভিটা তৈরি করার জন্য প্রায় ১৫ বছর ধরে সময় লেগে গিয়েছিল।
১৯৯৭ সালে যখন জেমস ক্যামেরনের টাইটানিক রিলিজ হয়েছিল এবং রিলিজ হওয়ার পরে সেটা বাক্স অফিসে ধামাকা করে দিয়েছিল। তো ওই মুভিটা রিলিজ হওয়ার পরেই অবতারের কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু জেমস ক্যামেরনের মতে সেই সময় হলিউডে সেই সমস্ত অ্যাডভান্স টেকনোলজিস্ট ছিলনা যেগুলো ব্যবহার করে তিনি অবতারের মতন একটা এ পিক মুভি তৈরি করতে পারেন। তার সাথে তার ওই মুভিটি তৈরি করার জন্য মেসিফ ফান্ডিং এর দরকার ছিল সেটাও তখন অ্যাভেলেবেল ছিল না।
তাই অবতার তৈরি করতে এবং সেটি কে রিলিজ করতে প্রায় ১৫ বছর সময় লেগেছিল অভতারের প্রথম পার্ট টাকে হাইব্রিড মুভি বলা হয়ে থাকে। কারণ ওই মুভিতে যেমন থ্রিডি অ্যানিমেটেড ক্যারেক্টার ও ছিল তেমনি লাইভ একশন সিকুয়েন্স ও ছিল, জেমস ক্যামেরন ওই এলিয়েন্ট গ্রহটার যার নাম ছিল পেন্ডোরা তার জন্য একটা এক্সট্রা অর্ডিনারি রিয়েলিস্টিক ইনভাইরনমেন্ট তৈরি করতে চেয়েছিলেন আর এর জন্য তিনি এনিমেশনের সঙ্গে ব্যবহার করেছিলেন মোশন ক্যাপচার।
বর্তমানে এই মোশন ক্যাপচার কে অনেক বড় বড় মুভিতে ব্যবহার করা হয় এবং কি মার্বেলেও ওই টেকনোলজি এখন ব্যবহার করে, তবে অভতারের আগে মোশন ক্যাপচার টেকনোলজি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গেমেতেই ব্যবহার করা হতো।
তবে অভতারের আগেও মোশন ক্যাপচার কে ওনেক মুভিতে ব্যবহার করা হয়েছিল কিন্তু সেটা খুব স্মল ইসকেলে ছিল , তিনি যখন অবতার মুভির জন্য ক্যারেক্টার ডিজাইন করেছিলেন মানে ওই ব্লু টাইপের এলিয়েনের গুলোকে তখন সেই ক্যারেক্টার গুলোর মধ্যেই তিনি কোন মতেই একটা রিয়েলিস্টিক এক্সপ্রেশন আনতে পারছিলেন না, তাই তিনি এক্সপেন্সিভ ভাবে ওই মোশন ক্যাপচার টেকনোলজিকে ব্যবহার করেন।
আর এটা করার জন্য তাকে অনেক ধরনের নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করতে হয়। যেমন নতুন ধরনের লাইটিং নতুন ধরনের এডভান্স ক্যামেরা যার সাহায্যে রিয়েল ক্যারেক্টার থ্রিডি অবজেক্ট এর সঙ্গে ইন্টারেট করতে পারে মানে অভিলেসলি রিয়েল নয় মানে ভার্চুয়ালি ইন্টার রিয়েক্ট করতে পারে।
তার সঙ্গে ছিল একটা বিশাল বড় মোশন স্টুডিও যা সেই সময়কার সবচেয়ে বড় ছিলো, তার সাথে ছিল একটা ভার্চুয়াল ক্যামেরা সিস্টেম যার সাহায্যে মুভি শুট করার সময় থ্রিডি ইনভারমেন্ট কে রিয়েল টাইমে দেখা যেত, আর এসব কিছুই এর আগে মানুষ কোনদিন দেখেনি। তিনি একটা নতুন ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করেছিলেন যা অ্যাক্টরদের মুখ থেকে মাত্র ৬ ইঞ্চি দূরে লাগানো থাকতো।
এবং এর সাহায্যেই রিয়েল টাইমে অ্যাক্টরদের এক্সপ্রেশন গুলোকে ক্যাপচার করা সম্ভব হয়েছিল আর ওই এক্সপ্রেশন গুলোকেই থ্রিডি ক্যারেক্টারের উপর এপ্লাই করা হয়েছিল।
এমনকি নাবিরাও যে কি ভাষায় কথা বলবে সেটা কেউ তারা ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্ট দিয়ে তৈরি করেছিল মানে সম্পূর্ণ একটা ভাষাকে তারা নতুনভাবে তৈরি করেছিল।
সুতরাং প্রথম অবতর তৈরি করতে যদি এত সময় লেগে যায় শুধুমাত্র টেকনোলজি গুলো ডেভেলপ করার জন্য। তাহলে অবতার টু তো অনেকদিন আগেই আমাদের সামনে চলে আসার দরকার ছিল কারণ টেকনোলজি তো তারা অলরেডি ডেভেলপ করেই ফেলেছে?
কিন্তু জেমস ক্যামেরন যখন কোন মুভি তৈরি করে তিনি শুধু একটা মুভিই তৈরি করেনা তিনি তার মুভির মাধ্যমে মানুষকে অবাক করে দিতে চান, তাহলে কি এই নতুন টেকনলজি আর এই অবতার ২ কে আসতে এত দেরি লেগে গেল কেন?
অনেক সোর্স অনুযায়ী অবতার ১এ যে নায়ক নায়িকা ছিল অবোতার ২তে তাদের বয়স অনেক বেড়ে যাবে অবতার টু এর গল্পের মেন ফোকাস হবে তাদের ছেলেমেয়েরা। এবং ওই এলিয়েন গ্রহতে তারা বিভিন্ন ধরনের অ্যাডভেঞ্চার বেরোবে মুভিতে অনেক জায়গায় দেখানো হবে যে আন্ডারওয়ার্ল্ড টার আছে সুতরাং এর আগের মুভিতে তিনি যে সমস্ত জিনিসগুলো তৈরি করেছিলেন সেগুলোই মধ্যে যেমন তিনি পারফেকশন নিয়ে এসেছেন এখানে তার সাথে মোশন ক্যাপচার টেকনোলজি কে তিনি জলের তলায় পর্যন্ত নিয়ে গেছেন।
তার মানে তিনি যে আন্ডারওয়াটার সেল্টগুলো কে তৈরি করেছেন, সেগুলোর মধ্যে যে শুধুই সিজিআই effect ই আছে সেটাই নয়, বরং জলের তলায় তিনি এক্টর দের মোশন ক্যাপচারের ড্রেস পরিয়ে সেখানেই শুট করেছেন।
তারা নিউজিল্যান্ডে বিশাল বড় বড় সেট তৈরি করেছিল যেখানে আন্ডার ওয়াটার সিন গুলোকে শুট করার জন্য পুল ছিল। এমনকি জলের তলায় অনেকক্ষণ ধরে দম বন্ধ করে রাখার জন্য অ্যাক্টরদের ট্রেনিংও নিতে হয়েছিল।
ওই পুলের চারদিকে লাগানো থাকতো মোশন ক্যাপচার সেনসর, এবং উপরের লাইট যাতে আন্ডারওয়াটার সিনকে এফেক্ট করতে না পারে তার জন্য পুলের উপরে অনেক ছোট ছোট বলের মত জিনিস ভাসিয়ে রাখা হতো। যাতে করে উপরে লাইট নিচ পর্যন্ত যেতে না পারে।
আপনি ভাবুন যে শুটিংয়ে যাওয়ার সময় অভিনেতাদের কতটা কষ্ট করতে হয়েছিল? সারাদিন জলের মধ্যে সাঁতার কেটে মুভির স্যুট করতে গেলে কতটা পরিশ্রমের দরকার সেটা আপনি নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারছেন?
কারণ আপনাদের মধ্যে হয়তো বা অনেকেই একুয়ামেন মুভিটি দেখে থাকতে পারেন? ওখানে জলের তলার ছিনগুলো কতটা ফেক লাগছিল সেটা আর বলার মত নয়।
মেন কথা হচ্ছে গিয়ে জলের উপরে যে কোন জিনিসের সিমুলেশন করা টেকনোলজি মুভি ইন্ডাস্ট্রির কাছে অলরেডি আছে। এমনকি অনেক স্টুডিও আছে যেখানে প্রয়োজন মত আপনি ব্যাকগ্রাউন্ড সিনকে পাল্টে দিতে পারবেন তাও আবার ডিজিটালি।
এমনকি হলিউড আকাশের উপরের সিন কেউ খুব ভালোভাবে সিমুলেট করতে পারে, যেমন আমরা গেম অফ থ্রু সিন এর ড্রাগনের সিন গুলোকে দেখেছি।
কিন্তু সব সময় সবচাইতে ডিফিকাল্ট কাজ এটাই ছিল জলের তলাকে সিমুলেট করা আর অবতার ২ তে যখন এই টেকনোলজি কে সাকসেসফুলি ব্যবহার করা হবে।
তারপরে আমরা এরকম ধরনের জিনিস ফিউচারে আরো অন্যান্য মুভিতে ব্যবহার হতে দেখতে পারি, তো ফ্রেন্ডস অবতার ২ মুভি নিয়ে আপনারা কতটা বেশি এক্সাইটেড? সেটা নিচে কমেন্ট করে জানাতে একদম ভুলবেন না।

.jpg)
.jpg)
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ